
বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলায় সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলায় সেনা মোতায়েনের খবর বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেন সাতক্ষীরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মোস্তফা কামাল।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা শহরে সেনাবাহিনীর প্রায় ১০০ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তারা শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়ও যাবেন।
শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় ও দুর্যোগ পরবর্তী সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল পদাতিক ডিভিশন সমূহ। সাতক্ষীরা জেলায় সেনা মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ বিশেষ বুলেটিনে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শনিবার সকালে পায়রা ও মোংলা সমুদ্র বন্দরের ৭ নম্বর সংকেত নামিয়ে ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের ৬ নম্বর সতর্কতা সংকেত নামিয়ে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়। অন্যদিকে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ও মুন ফেজের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

পাঠকের মতামত